চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,
শিবগঞ্জে জামায়াতের পথসভায় হামলা-ভাঙচুর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে বিএনপি কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বাখরোলী বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলীর পথসভায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখরোলী বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. কেরামত আলীর পথসভা শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। সভার ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপির কার্যালয়ের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুদলের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও সভাস্থলের শতাধিক চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কড়া পাহারায় সেখানেই সংক্ষিপ্ত পথসভা সম্পন্ন করেন ড. কেরামত আলী।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ও প্রার্থী ড. কেরামত আলী জানান, এই ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হবে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মাওলানা সাদিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই আসনে বিএনপির নিশ্চিত পরাজয় দেখে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানাই।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, দুই দলের অফিস পাশাপাশি। জামায়াত কর্মীরা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত লাইট জ্বালিয়েছে এবং আমাদের অফিসের ছবি তুলছিল। এ নিয়েই মূলত বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের ব্যানার-ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় এলাকায় নির্বাচনি উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Leave a Reply